নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম : রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে সাজানো মামলার ভিত যে দুর্বল, তা আরও একবার স্পষ্ট হলো চট্টগ্রামের আদালতে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাসহ দলের ১৮৩ জন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে দায়ের করা একটি মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন খোদ মামলার বাদী কফিল উদ্দিন।
চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে বাদী লিখিতভাবে জানান, ভুল বোঝাবুঝি ও বিভ্রান্তি থেকেই এই অভিযোগ তোলা হয়েছিল। মূলত বিরোধের চূড়ান্ত মীমাংসা হয়ে যাওয়ায় তিনি আর মামলাটি চালাতে আগ্রহী নন। বাদীর স্পষ্ট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত শুনানি শেষে মামলাটি খারিজ ও প্রত্যাহারের আদেশ দেন।
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দেশজুড়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ঢালাওভাবে এমন বহু উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা চাপিয়ে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। আইনি বিশ্লেষকদের মতে, কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া দাঁড় করানো এসব বানোয়াট অভিযোগ আদালতের কাঠগড়ায় শেষ পর্যন্ত টিকছে না। বাদী নিজেই সত্য বুঝতে পেরে সরে আসায় চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
মামলা প্রত্যাহারের খবর জানার পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, “এগুলো যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা মামলা ছিল, তা আজ সুপ্রতিষ্ঠিত হলো। বাদী নিজেই ষড়যন্ত্র বুঝতে পেরে মামলা তুলে নিয়েছেন। অসত্যের ওপর দাঁড়িয়ে কোনো অপচেষ্টা বেশিদিন টেকে না। আইনি প্রক্রিয়া এবং জনগণের আস্থার মধ্য দিয়েই সব ষড়যন্ত্র এক এক করে ধসে পড়বে।”
আইনজীবীরা মনে করছেন, ভিত্তিহীন অভিযোগ দিয়ে রাজনৈতিকভাবে কাউকে ঘায়েল করার এই কৌশল বেশিদিন কার্যকর থাকে না। বাদীদের নিজেদের ভুল উপলব্ধি করে পিছিয়ে আসার ঘটনা প্রমাণ করে, সত্যকে আড়াল করে সাজানো মামলার অস্তিত্ব দীর্ঘস্থায়ী হয় না।
সংবাদ সতর্কতা ও আইনি ডিসক্লেইমার (Disclaimer):
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই আদালত ও রাজনৈতিক সম্পর্কিত প্রতিবেদনটি চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নথি, মামলার বাদীর বক্তব্য এবং আওয়ামী লীগ নেতা বাহাউদ্দিন নাছিমের দেওয়া বিবৃতির ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে।
