ফোরটিন ডেস্ক : সন্তানের কাছে নিরাপদ আশ্রয়ে শেষ বয়সটা নিশ্চিন্তে কাটানোর আশা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমিয়েছিলেন অনেক বৃদ্ধ বাবা-মা। তবে নিউইয়র্কে এসে তাদের অনেকের জীবনেই নেমে এসেছে চরম একাকীত্ব, অবহেলা ও নির্মম বাস্তবতা। সন্তানদের কাছে থাকা সত্ত্বেও দিনের আলোয় ঘরে থাকতে না দেওয়া, পার্কে বসে কান্না করা এবং পরিচিতদের কাছে চা-খাবারের জন্য এক-দুই ডলার চাওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশি লাকি খানম।
সম্প্রতি দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে লাকি খানম জানান, নিউইয়র্কের পার্ক ও রাস্তায় চলাচলের সময় একাধিক প্রবীণ বাংলাদেশির সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে, যারা সরাসরি সাহায্য চেয়েছেন। অনেকে সন্তান দ্বারা বাংলাদেশ থেকে আনীত হলেও হোম কেয়ার সার্ভিসের আওতায় পাওয়া সরকারি আর্থিক সুবিধার প্রকৃত সুফল পাচ্ছেন না। উল্টো সন্তানদের কর্মব্যস্ততা ও পারিবারিক নানা অজুহাতে দিনের বড় একটা সময় ঘরের বাইরে কাটিয়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন তারা।
নিউইয়র্কের আইনি কাঠামো অনুযায়ী, বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তির অর্থ বা সম্পদ অন্য কারও অন্যায়ভাবে ব্যবহার করা আর্থিক শোষণের সামিল। একইসাথে খাবার, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয় থেকে বঞ্চিত করাও দণ্ডনীয় অবহেলা হিসেবে গণ্য। ‘নিউইয়র্ক স্টেট অফিস ফর দ্য এজিং’-এর তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যটিতে প্রতিবছর প্রায় ৩ লক্ষাধিক প্রবীণ মানুষ বিভিন্নভাবে নির্যাতন ও অবহেলার শিকার হন।
লাকি খানম স্পষ্ট করেন, তাঁর অভিযোগ কোনো এজেন্সি বা হোম কেয়ার কর্মীদের বিরুদ্ধে নয়, বরং দায়িত্বজ্ঞানহীন সন্তানদের বিরুদ্ধে। একইসাথে বাংলাদেশে থাকা বয়োবৃদ্ধদের উদ্দেশ্যে তিনি পরামর্শ দেন—শুধু আমেরিকায় আসার সুযোগ পেলেই অন্ধের মতো আসা ঠিক নয়। বাংলাদেশে হয়তো আর্থিক প্রাচুর্য কম, কিন্তু পরিচিত সামাজিক গণ্ডি ও স্বজনদের সাথে কথা বলার সুযোগ থাকে, যা প্রবাসের যান্ত্রিক একাকীত্বের চেয়ে অনেক শ্রেয়।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্কে কোনো বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি অবহেলা বা আর্থিক শোষণের শিকার হলে তা তদন্ত ও সহায়তার জন্য ‘অ্যাডাল্ট প্রোটেকটিভ সার্ভিসেস’ (APS)-এর কাছে অভিযোগ দায়ের করার সুযোগ রয়েছে।
