দেশে অপহরণের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। পুলিশ সদরদপ্তরের অপরাধ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০২৫ সালে সারাদেশে এক হাজার ১০২টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। আগের বছর ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ৬৪২টি। এক বছরের ব্যবধানে অপহরণ বেড়েছে ৪৬০টি, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ৭১ দশমিক ৬৫।
গত পাঁচ বছরের মধ্যে ২০২৫ সালেই সর্বাধিক অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে ২০২৩ সালে ৪৬৩টি, ২০২২ সালে ৪৬০টি এবং ২০২১ সালে ৪৪৫টি অপহরণের মামলা হয়।
নতুন বছরের শুরুতেই পরপর কয়েকটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সামনে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের মাঠের নিরাপত্তা নিয়েও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
এই পরিস্থিতিতে সরকার গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ–২’ শুরু করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত ২৪ দিনে এ অভিযানে ১৫ হাজার ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং উদ্ধার করা হয়েছে ২১৮টি আগ্নেয়াস্ত্র। তবে অভিযান চললেও গুলির ঘটনা ও হত্যাকাণ্ড থামেনি।
গত ২৯ ডিসেম্বর পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আসন্ন নির্বাচনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে যে কোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার নির্দেশ দেন। সভায় ভার্চুয়ালি সব জেলার পুলিশ সুপার, রেঞ্জ ডিআইজিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেন।
সম্প্রতি রাজধানী ও বিভিন্ন জেলায় একাধিক হত্যাকাণ্ড আলোচনায় এসেছে। গত বুধবার ঢাকায় মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বিরকে হত্যা করা হয়। ৩১ ডিসেম্বর রাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় আইনজীবী নাঈম কিবরিয়াকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এ ছাড়া ১ ডিসেম্বর জুরাইনে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক পাপ্পু শেখকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পুলিশ জানায়, এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি মো. বাপ্পারাজ ওরফে বাপ্পা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছিলেন। তার কারবারে বাধা দেওয়ায় পরিকল্পিতভাবে পাপ্পুকে হত্যা করা হয়।
পুলিশ সদরদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সারাদেশে খুনের ঘটনায় মামলা হয়েছে তিন হাজার ৭৮৫টি। তবে এর মধ্যে আগের বছরের কিছু ঘটনার মামলাও রয়েছে। তুলনামূলকভাবে ২০২৪ সালে খুনের ঘটনা ছিল তিন হাজার ৪৩২টি এবং অপহরণ ৬৪২টি।
২০২৪ ও ২০২৩ সালের মাসভিত্তিক অপরাধ পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, খুন, অপহরণ এবং নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো প্রায় সারা বছরই উচ্চমাত্রায় ছিল। বিশেষ করে ২০২৫ সালে অপহরণে হঠাৎ এই বড় উল্লম্ফন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে সহিংস অপরাধ দমনে কার্যকর ও টেকসই উদ্যোগ না নেওয়া হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।
