রাজনৈতিক প্রতিবেদক, ঢাকা : আগামী ডিসেম্বরে দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে মাঠের রাজনীতিতে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করতে এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের যেকোনো আন্দোলন মোকাবিলায় ব্যাপক কৌশলী প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। এর অংশ হিসেবে চলতি নভেম্বর মাস থেকেই পুরোদমে ‘মাঠ দখলে’ নামার সর্বাত্মক ছক কষছে দলটি।
দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, দলের কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। রাজপথে নেতাকর্মীদের সার্বক্ষণিক সক্রিয় রাখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার জোরদার করা এবং ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে রাজপথ নিয়ন্ত্রণে রাখার বহুমুখী পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, নভেম্বরকে সামনে রেখে দলটির মূল লক্ষ্য হবে অভ্যন্তরীণ কোন্দল দূর করে তৃণমূল পর্যায়কে ঐক্যবদ্ধ করা। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় থাকা বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকে নতুন উদ্যমে মাঠে নামাতে পুনর্গঠন ও নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
দলীয় সূত্রে আরও জানা যায়, মাঠের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে উঠতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোর পাশাপাশি সারা দেশের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সতর্ক পাহারার কৌশল নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বড় ধরনের রাজনৈতিক শোডাউনের প্রস্তুতিও চলছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, দলীয় প্রধানের পক্ষ থেকে নেতাকর্মীদের সক্রিয় হয়ে রাজপথ নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে স্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে।
কেবল রাজপথ নয়, বর্তমান বাস্তবতায় ভার্চুয়াল মাধ্যমেও তৎপরতা বাড়ানোর বিশেষ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের অতীত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ব্যাপকভাবে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রতিপক্ষের প্রচারণার জবাব দিতে নেতাকর্মীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সামনে শীতকালীন রাজনীতিকে কেন্দ্র করে দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে নানা মহলে কৌতূহল থাকলেও আওয়ামী লীগের এই প্রস্তুতি স্পষ্টতই রাজপথে তাদের অবস্থান জানান দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
