ফোরটিন ডেস্ক : বড় ছেলের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ভর্তির আনন্দে পরিবার নিয়ে প্রথমবার একসঙ্গে ওমরাহ করতে যাচ্ছিলেন ভারতের হায়দরাবাদের তথ্যপ্রযুক্তি প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ আলী। কিন্তু সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় গুরুতর আহত হয়ে পরদিন মারা যান তিনি। এ ঘটনায় তাঁর দুই ছেলে এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত আরব নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর বিমানবন্দরে হামলার সময় ইউসুফ আলী তাঁর বড় ছেলেকে নিয়ে জুস কিনতে গিয়েছিলেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা তখন মদিনাগামী ফ্লাইটের অপেক্ষায় ছিলেন। ওই সময় হামলায় বাবা ও ছেলে গুরুতর আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরদিন ইউসুফ আলীর মৃত্যু হয়।
ইউসুফ আলীর আত্মীয় ও প্রতিবেশী মোহাম্মদ আকবর হাশমি আরব নিউজকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
ছেলের সাফল্য উদ্যাপন করতে ওমরাহযাত্রা
হাশমির ভাষ্য অনুযায়ী, ইউসুফ আলী সৌদি আরব ও ভারতে কাজ করতেন। বড় ছেলের শিক্ষাজীবনের নতুন অধ্যায়ের জন্য সৃষ্টিকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে স্ত্রী, দুই ছেলে, মেয়ে এবং পরিবারের এক নারী স্বজনকে নিয়ে ওমরাহ পালনের পরিকল্পনা করেছিলেন তিনি।
কিন্তু রিয়াদ বিমানবন্দরের হামলায় তাঁদের সেই যাত্রা মর্মান্তিক ঘটনায় রূপ নেয়। ইউসুফ আলীর মৃত্যুর পাশাপাশি তাঁর দুই ছেলেও গুরুতর আহত হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই ছেলে
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউসুফ আলীর বড় ছেলের দুই হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। ভাঙা কাচের আঘাতে তার পেটেও অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে তাকে আরও প্রায় তিন সপ্তাহ হাসপাতালে থাকতে হতে পারে বলে জানিয়েছেন পরিবারের স্বজন।
বাবার মৃত্যুর খবর দুই ছেলেকে জানানো হয়েছে। ইউসুফ আলীর মেয়ে ও পরিবারের ওই নারী স্বজন অপেক্ষাকৃত কম আহত হওয়ায় চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। তাঁর স্ত্রীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়নি। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই সন্তানের দেখাশোনা করছেন।
হামলায় হতাহত বহু মানুষ
প্রতিবেদনে রয়টার্সের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, রিয়াদ বিমানবন্দরে ওই হামলায় ১৩ জন নিহত এবং প্রায় ৩০০ জন আহত হন। হতাহতদের মধ্যে ওমরাহযাত্রীরাও ছিলেন।