নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা : উন্নত চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাশিয়ায় পাচার করার পর ইউক্রেনের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো ৩০ জন বাংলাদেশির মধ্যে ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। বুধবার (১৪ অক্টোবর) যুগান্তর পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এই উদ্বেগজনক তথ্য প্রকাশিত হয়।
বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৩১ ও ৩২ অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তা বিধান এবং মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২ অনুযায়ী প্রতারণামূলক পাচারের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডসহ সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) এই আন্তর্জাতিক পাচার রোধ ও ভুক্তভোগীদের সহায়তার দায়িত্বে নিয়োজিত।
এসআরবির অভিযানে এই আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জবরদস্তিমূলক সামরিক নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস ও ট্রুথ হাউন্ডসের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বেসামরিক চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্থানীয় দালালরা বাংলাদেশিদের রুশ ভাষায় লেখা বাধ্যতামূলক সামরিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করিয়ে নিত।
পরবর্তীতে তাঁদের কোনো সামরিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই সরাসরি ইউক্রেন সীমান্তের কঠিন যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠিয়ে দেওয়ার একাধিক প্রমাণ যৌথ প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছিল।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বাংলাদেশ সরকারকে পাচারকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ প্রদানের জোরালো আহ্বান জানিয়েছে।
বিদেশে যাওয়ার আগে নিয়োগপত্রের ভাষা ও শর্তাবলী সঠিকভাবে যাচাই-বাছাই করার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি পুনরায় সতর্কবার্তা জারি করেছে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়।
