নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার চক্রান্ত বন্ধ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে অসম বাণিজ্য চুক্তি বাতিল এবং ঢাকায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশে পুলিশি হামলার বিচারের দাবিতে যশোরে উত্তাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার বিকেলে যশোর শহরের প্রাণকেন্দ্র দড়াটানা ভৈরব চত্বরে ‘সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধ বিরোধী জোট, যশোর’-এর উদ্যোগে এই সমাবেশ আয়োজন করা হয়।
সমাবেশ থেকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, ৭১-এর রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম এবং ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশবাসী আর কোনো বিদেশি প্রভুর দাসত্ব দেখতে রাজি নয়। সরকারের এই নতজানু নীতি ও দেশবিরোধী চক্রান্ত চলতে থাকলে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।
‘সাম্রাজ্যবাদ ও যুদ্ধ বিরোধী জোট’ যশোর জেলার সমন্বয়ক, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও যশোর জেলা সম্পাদক কমরেড তসলিম উর রহমান-এর সভাপতিত্বে এবং বাসদ যশোর জেলার নেতা কমরেড আলাউদ্দিন-এর পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান ও বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সিপিবি যশোর জেলার সভাপতি মাহবুব রহমান মঞ্জু,বাসদ যশোর জেলার সদস্য সচিব হাচিনুর রহমান, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, যশোরের সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য বিপুল বিশ্বাস প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সরকার অত্যন্ত নতজানু নীতি গ্রহণ করে দেশের হৃদপিণ্ড চট্টগ্রাম টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দিচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় বোয়িং বিমান কিনে দেশের অর্থ লোপাট করা হচ্ছে, যা ২০৩৭ সালে পাওয়া যাবে কিন্তু টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে এখনই। এটি আর কিছুই নয়, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির আমলের সেই লুটেরা কৌশলের আধুনিক সংস্করণ। আমেরিকার মতো সাম্রাজ্যবাদী শক্তি যাদের বন্ধু, তাদের আর আলাদা শত্রুর প্রয়োজন নেই!
বক্তারা দেশের ধর্মীয় উগ্রবাদী গোষ্ঠীর অপতৎপরতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, একদিকে একদল উগ্রবাদী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতে ‘বিদেশি’ আখ্যা দিয়ে কালি লেপে দিচ্ছে। আর অন্যদিকে সরকার দেশের সার্বভৌম সম্পদ চট্টগ্রাম টার্মিনাল বিদেশিদের হাতে তুলে দিচ্ছে। এই সরকার এক গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মাথায় প্রসাব করার পরিণতি আজ সমাজকে কোথায় নিয়ে গেছে তা প্রকাশ পাচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি ঘটেছে। কৃষক-শ্রমিক দিশেহারা, গ্যাস, তেল ও সারের চরম সংকট চলছে, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে শ্রমিকের কাজ।
বর্তমান শাসকশ্রেণি ও তাদের মদদদাতাদের সতর্ক করে বক্তারা বলেন, আমরা আজ এই সমাবেশ থেকে সরকারকে স্পষ্ট ভাষায় ‘হলুদ কার্ড’ দেখাচ্ছি। যদি অবিলম্বে এসব অসম চুক্তি বাতিল না করা হয় এবং সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দেওয়া বন্ধ না হয়। তবে লাল কার্ড দেখিয়ে জনগণকে সাথে নিয়ে চূড়ান্ত আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। তথাকথিত রাজনৈতিক ব্লু-প্রিন্ট বা কারসাজি দিয়ে এ দেশের মানুষকে দাবিয়ে রাখা যাবে না। কারণ এ দেশের মানুষ ৭১ ও ২৪ এ রক্ত দিয়েছে স্বাধিকারের জন্য, সাম্রাজ্যবাদীদের দাসে পরিণত হওয়ার জন্য নয়। রাজনৈতিক বিরোধী শক্তি জামায়াতসহ যারা আজ দেশ বিক্রির এসব চক্রান্ত নিয়ে চুপ করে আছে, জনগণ তাদেরও ক্ষমা করবে না।
সমাবেশ থেকে অনতিবিলম্বে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা দেওয়া বন্ধ, মার্কিনীদের সাথে স্বাক্ষরিত সকল অসম চুক্তি বাতিল এবং ঢাকায় প্রগতিশীল নেতা-কর্মীদের ওপর পুলিশি হামলার বিচারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোর দাবি জানানো হয়।
