ফোরটিন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের ফিনিক্স থেকে কানাডার মন্ট্রিয়লগামী এয়ার কানাডার একটি বিমানে মাঝ আকাশে অ্যাসাইলাম বা আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আশ্রয় চাওয়ার চাঞ্চল্যকর খবর সামনে এসেছে। অ্যারিজোনা থেকে আকাশে ওড়ার পর ১৪ নম্বর সারিতে থাকা এক মার্কিন নারী যাত্রীর অস্বাভাবিক আচরণ ও হাতে লেখা নোটের মাধ্যমে এই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার আবেদন জানান।
উড্ডয়নরত ফ্লাইটে ওই নারী কেবিন ক্রুদের হাতে কয়েকটি গোপন চিরকুট প্রদান করেন যেখানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কানাডা সরকারের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের দাবি উত্থাপন করেন।
আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা এবং কানাডার অভিবাসন আইনি ধারা অনুযায়ী উড্ডয়নরত বিমানে যেকোনো যাত্রীর জরুরি নাগরিক বা অভিবাসন সুরক্ষা চাওয়ার অধিকার সংক্রান্ত ধারা বহাল রাখা আবশ্যক। বিমানের যাত্রীদের নিরাপত্তা ও বিমান চলাচলের স্বাভাবিকতা বজায় রাখায় সুনির্দিষ্ট প্রটোকল বলবৎ রয়েছে।
কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি এবং বিমানটির ককপিট দল যৌথভাবে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার গতিবিধি পর্যবেক্ষণ ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা তদারকি করছে। মন্ট্রিয়ল বিমানবন্দরে অবতরণের পর সীমান্ত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় সকল অভিবাসন আইনি পদক্ষেপ চালু রেখেছেন।
ফ্লাইট চলাকালে পাইলট ও ককপিটের সাথে আলোচনার পর নির্ধারণ করা হয় যে উক্ত নারী বিমান চলাচলের জন্য সরাসরি কোনো মারাত্মক নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছেন না।
চার ঘণ্টার উড্ডয়ন শেষে বিমানটি নিরাপদে কানাডার মন্ট্রিয়লে অবতরণ করলে স্থানীয় সীমান্ত কর্মকর্তারা ওই মার্কিন নারী যাত্রীকে পরবর্তী প্রক্রিয়ার জন্য কাস্টমস হেফাজতে গ্রহণ করেন।
উল্লেখ্য যে, ওই নারী নিয়মিত মানসিক স্বাস্থ্যের ওষুধ সেবন করছিলেন এবং তিনি একজন মার্কিন নাগরিক হওয়ায় স্থলসীমান্তের বিশেষ চুক্তি তাঁর ক্ষেত্রে সরাসরি প্রযোজ্য হচ্ছে না।
স্থলপথের বদলে মাঝ আকাশে এভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত উপায়ে কোনো মার্কিন নাগরিকের কানাডায় আশ্রয় চাওয়ার এমন ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিরল বলে মনে করছেন বিশ্ব রাজনীতি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
আবেদনকারী ওই নারীর দাবিকৃত জীবন হুমকির তথ্য যাচাই সাপেক্ষে কানাডার শরণার্থী বোর্ড আইনানুযায়ী তাঁর অ্যাসাইলাম গ্রহণযোগ্যতার চূড়ান্ত শুনানি সম্পন্ন করবে।
