নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা: কুমিল্লার দাউদকান্দিতে দিনভর অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন হিসেবে ২৮ জন কিশোরকে পুলিশ ধরে নিয়ে যাওয়ার পর রাতে থানার ভেতর থেকে ২২ জন কিশোর বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার রাতে দাউদকান্দি মডেল থানায় এ নিয়ে চরম অপ্রীতিকর ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
আটক কিশোরদের স্বজনেরা বিকেল থেকে দাউদকান্দি মডেল থানার প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হতে শুরু করলে হট্টগোল শুরু হয়। কোনো নির্দিষ্ট অপরাধ রেকর্ড ছাড়াই অযথা ধরে আনার অভিযোগে স্থানীয় লোকজন ও অভিভাবকদের মাঝে চরম ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটে।
ফৌজদারি কার্যবিধি ও জাতীয় পুলিশি নীতিমালা অনুযায়ী বিনা পারোয়ানায় অনর্থক সাধারণ নাগরিকদের ধরে হয়রানি না করার সুনির্দিষ্ট আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখা ও অহেতুক পুলিশি নির্যাতন রোধে নির্ধারিত বিচারিক প্রক্রিয়ার তদারকি বহাল রাখা আবশ্যক।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ প্রশাসন ও দাউদকান্দি থানা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে উদ্ধারকৃত কিশোরদের সামাজিক ও পরিবারগত সুরক্ষার বিষয়টি তদারকি করছে। থানার অভ্যন্তরীণ জানমালের সুরক্ষা নিশ্চিতে সুনির্দিষ্ট আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ জারি রাখার কথা জানানো হয়েছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, লকাপের ভেতরে থাকা ক্ষুব্ধ কিশোরেরা ঘরের টেবিল ও দরজা ধাক্কিয়ে বের হয়ে মুক্ত প্রাঙ্গণে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে শুরু করে।
পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, “তেমন বড় কিছু হয়নি, অপ্রয়োজনে ঘোরাফেরার জন্য আটক করায় স্বজনেরা এলে ভিড় বাড়ে এবং সাড়ে ১০টার দিকে ২২ জনকে স্বজনদের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।”
ওসি আরও যুক্ত করেন যে, বাকি ৬ জন কিশোরের নামে কোনো পূর্ব অপরাধের রেকর্ড রয়েছে কি না তা এখনো পুলিশি অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।
বিনা অপরাধে কিশোরদের ধরে এনে এমন হয়রানি করায় পুলিশি বাণিজ্যের বিরুদ্ধে স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে তীব্র নিন্দা প্রকাশ করা হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ ঘটনার সার্বিক তদন্ত রিপোর্ট পর্যালোচনার মাধ্যমে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিশ্চিত করবে বলে জানিয়েছে দাউদকান্দি মডেল থানা কর্তৃপক্ষ।
