ফোরটিন ডেস্ক : দেশের রাজনৈতিক পটভূমিতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের পরিবার-পরিজনকে টার্গেট করে হামলা, বাড়িঘর ভাঙচুর ও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সরাসরি না পেয়ে তাদের বৃদ্ধ পিতা-মাতাকে হেনস্তা করার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর অভিযোগ, স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রভাবশালী ক্যাডাররা রাতে ও দিনে বসতবাড়িতে চড়াও হয়ে বৃদ্ধ বাবা-মা ও স্বজনদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করছে। সন্তানকে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া বা মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তাদের মানসিকভাবে জিম্মি করা হচ্ছে।
মানবাধিকার সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো এসব পারিবারিক হয়রানির বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যাতে আইনশৃঙ্খলা নিজের হাতে তুলে নিতে না পারে, সে লক্ষ্যে প্রশাসন থেকে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও পুলিশ প্রশাসন অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিতকরণে মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করেছে। হয়রানির শিকার পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের চিহ্নিত করে আদালতে সোপর্দ করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।
ছাত্রলীগ ও যুবলীগের আত্মগোপনে থাকা কর্মীদের স্বজনেরা জানান, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই অপরাধের সাথে যুক্ত না থাকা বৃদ্ধ বাবা-মা ও অবুঝ শিশুদের ওপর মধ্যযুগীয় বর্বরতা চালানো হচ্ছে। এতে সমাজজুড়ে ভয় ও সামাজিক অস্থিতিশীলতা চরম আকার ধারণ করেছে।
মানবাধিকারকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলেন, “রাজনৈতিক বিরোধের দায় কখনোই কোনো কর্মীর পিতা-মাতা বা স্বজনদের ওপর বর্তায় না, পরিবারের ওপর হামলা ও হুমকি আইনের শাসন ও মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন।”
তারা অবিলম্বে এ ধরনের বেআইনি হামলা ও হুমকি বন্ধে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। অন্যথায় রাজনৈতিক সহিংসতার এই সংস্কৃতির কারণে দেশের সামগ্রিক সামাজিক স্থিতিশীলতা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাবে বলে তারা আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।
পারিবারিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া এবং নিরপেক্ষ নাগরিকদের জিম্মি করার এই অপসংস্কৃতির কারণে দেশের সর্বত্র সাধারণ মানুষের মাঝে মারাত্মক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অবিলম্বে তাদের জীবনের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধানের দাবি জানিয়েছে।
প্রশাসনের তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় আদালতে আইনি প্রতিবেদন পেশ করা হবে।
