নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি সেতুর ফুটপাতের অংশে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। প্রায় ১০ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সেতুটিতে অনিয়মের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন সোমবার বিকেলে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এ অনিয়মের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, দ্রুত একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
টাঙ্গাইল জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদারকি করছে। অনিয়মের বিরুদ্ধে এলজিইডির পক্ষ থেকে নিজস্ব পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর আইনি প্রক্রিয়ার আদেশ জারি করা হয়েছে।
বাসাইলের স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জানান, এলজিইডি জেলা কার্যালয়ের মাধ্যমে অনিয়মে জড়িতদের চিহ্নিত করা হবে। পুরো প্রকল্পের মান নিশ্চিত করতে জেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী সব আইনি ধাপ সম্পন্ন হবে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকল্পের কাজ শুরু হয় এবং সময় বাড়ানোর পর ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইউনুস আল মামুন-মেসার্স জাকির’ বাসাইলের মোড়াগাং খালের ওপর ৯০ মিটারের এ সেতুটি পুনর্নির্মাণের কাজ পায়।
টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী জাহানারা পারভীন বলেন, “আমাদেরকে না জানিয়েই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সেতুটির ফুটপাত নির্মাণের কাজ শুরু করে, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ওই অংশ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দিয়েছি।”
তিনি আরও জানান, তদন্ত প্রতিবেদনে জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে যাদেরই গাফিলতি বা অনিয়ম পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম দাবি করেছেন, কংক্রিট ধরে রাখতে ছাঁচ হিসেবে তাঁরা সাময়িকভাবে বাঁশ ব্যবহার করেছিলেন।
সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের মতো প্রকাশ্য অনিয়মের ঘটনায় স্থানীয় অধিবাসীদের মনে তীব্র ক্ষোভ ও চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনতিবিলম্বে ঠিকাদারকে কালো তালিকাভুক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলজিইডির তদন্ত প্রতিবেদন জমা হওয়ার পর অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত আইনি এবং প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
