নিজস্ব প্রতিবেদক: সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার একটি মসজিদের অভ্যন্তরে চেয়ার, টেবিল ও সোফা বসিয়ে বিএনপির স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হকের একটি কর্মসূচি পালন নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। কোদলা কওমিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত এই সভার একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
শনিবার সকালে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভাটি কেন্দ্র করে নেটিজেনরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। তবে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের দাবি, আয়োজনটির মূল সমন্বয়ক ছিল সংশ্লিষ্ট মসজিদ ও মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটি।
সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সাধারণ জনগণের সার্বিক প্রতিক্রিয়া নজরদারিতে রেখেছে। আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিতিশীলতা এড়াতে মসজিদ পরিচালনা পর্ষদের সাথে কথা বলছে স্থানীয় প্রশাসন।
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসনিক প্রতিনিধিরা ঘটনাটির প্রকৃত পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। কোনো ধরনের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার ঘটনা ঘটেছে কি না তা নিশ্চিত হতে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি গ্রহণ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আয়নুল হক বর্তমানে সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপির তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এর আগে রায়গঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদেও দায়িত্ব পালন করেন।
রায়গঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল ইসলাম বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, মাদ্রাসা ও মসজিদের অর্থায়নের বিষয়ে আলোচনার জন্য কর্তৃপক্ষ এই সভার আয়োজন করেছিল, তাদের দেওয়া ব্যবস্থাপনাতেই আমরা অনুষ্ঠানে অংশ নিই।”
তিনি আরও স্পষ্ট করেন যে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার বিপুল অর্থ বকেয়া পরিশোধের বিষয়ে এমপি সাহেবের সহযোগিতা চাওয়ার জন্যই এই আমন্ত্রণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে রাজনৈতিক প্রচারের বদলে কেবল ধর্মীয় ও প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়েই কথা হয়েছে।
প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ এবং স্থানটির ধর্মীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে পরবর্তীতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মসজিদ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যেকোনো প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
