ফোরটিন ডেস্ক : উচ্চশিক্ষা অর্জন শেষে কাজের সুযোগ ও স্থায়ী ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্ন নিয়ে কানাডায় পাড়ি জমিয়েছিলেন বহু আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী। তবে তিন বছরের শিক্ষা জীবন পার করার পর তাদের জীবনে নেমে এসেছে তীব্র অনিশ্চয়তা ও ঋণের নির্মম বোঝা। কানাডার ইমিগ্রেশন ডিপার্টমেন্টের (IRCC) আকস্মিক নীতিগত পরিবর্তনের প্রভাবে পোস্ট-গ্র্যাজুয়েশন ওয়ার্ক পারমিট (PGWP) সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আলবার্টার পোর্টেজ কলেজসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শত শত বিদেশি শিক্ষার্থী।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে অন্যতম সমীর গাড়ওয়াল নামের এক ভারতীয় শিক্ষার্থী। বিপুল অঙ্কের ব্যাংক ঋণ নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার পর নিয়ম অনুযায়ী ওয়ার্ক পারমিট পাওয়ার কথা থাকলেও কোনো সুস্পষ্ট সদুত্তর ছাড়াই কানাডিয়ান ইমিগ্রেশন তাঁদের আবেদন সরাসরি বাতিল করে দিচ্ছে। ২০২৪ সাল থেকে কানাডা সরকার বেসরকারি ও যৌথ অংশীদারিত্বের কিছু কোর্সে ওয়ার্ক পারমিটের যোগ্যতায় কঠোর নিয়ম আরোপ করে। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তারা এই নিয়ম পরিবর্তনের অনেক আগেই ভর্তি হয়েছিলেন। কিন্তু আইনগুলোর পেছনের দিকের প্রভাব ফেলে তাদের ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া বন্ধ করা একদমই অন্যায্য ও অনৈতিক।
বর্তমানে শিক্ষা ঋণের বিপুল কিস্তি, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় এবং কাজের বৈধ অনুমতি না থাকায় মারাত্মক মানসিক ও আর্থিক সংকটে ভুগছেন তারা। জমানো সব টাকা শেষ হওয়ায় অনেকেই এখন ক্রাউডফান্ডিং বা তহবিল সংগ্রহের মাধ্যমে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন।
এই অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা কলেজের বাইরে তীব্র বিক্ষোভ শুরু করার পাশাপাশি আইনি লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তবে দ্রুত এর কোনো সমাধান না হলে বিশাল অংকের ঋণের দায় নিয়ে তাঁদের বাধ্য হয়ে নিজ নিজ দেশে ফিরে যেতে হবে।
