নিজস্ব প্রতিবেদক
অস্ত্র হাতে বিতর্কিত ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ চালিয়ে সমালোচনার মুখে পড়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে এসে হট্টগোল ও হাতাহাতির মুখে পড়েছেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের আব্দুস সালাম হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক নিজেই নিজের পদত্যাগের এই সিদ্ধান্ত জানান। তবে সংবাদ সম্মেলনের শুরু থেকেই তার নেতাকর্মীদের বিশৃঙ্খল আচরণ, হাতাহাতি এবং খোদ মন্ত্রীর নিজের ফোনসহ সাংবাদিকদের ফোন হারানোর ঘটনায় চরম অচলবস্থার সৃষ্টি হয়।
নির্ধারিত সময় সোমবার দুপুর ২টার প্রায় ১৫ মিনিট আগেই শত শত নেতাকর্মী ও অনুসারীদের বহর নিয়ে জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে পৌঁছান প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। চত্বরে গাড়ি থেকে নামার সঙ্গে সঙ্গেই তাঁর পকেটে থাকা মোবাইল ফোনটি হারিয়ে যায়। এ সময় তাঁকে উদ্বিগ্ন হয়ে বলতে শোনা যায়, “আমার ফোন কই, পকেটে ছিল। এই খুঁজে দেখ।” প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে তল্লাশির পর মাটি থেকে ফোনটি উদ্ধার করা হয়।
এরপর নেতাকর্মীদের বিশাল ভিড় ঠেলে প্রেস ক্লাবের তিনতলার আব্দুস সালাম হলে প্রবেশ করেন ইশরাক। অতিরিক্ত জনসমাগম ও বিশৃঙ্খলার কারণে মূলধারার সংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালন ব্যাহত হতে শুরু করে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সংবাদ সম্মেলন শুরুর ঠিক আগে ইশরাক দলীয় নেতাকর্মী ও ‘মোবাইল সাংবাদিকদের’ কক্ষ থেকে বাইরে চলে যাওয়ার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “এখানে মূল ধারার সাংবাদিক ভাইয়েরা বসে আছেন, তাদের কাজ করতে দেন। আমাদের নেতাকর্মী, মোবাইল সাংবাদিক যারা আছেন, তারা বাইরে গিয়ে অপেক্ষা করেন। সাংবাদিকরা ডিস্টার্বড হচ্ছেন।”
প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পরই উপস্থিত সাংবাদিকদের একটি অংশের মাঝে অসন্তোষ দেখা দেয়। শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোল। একপর্যায়ে ইশরাকের অনুসারী উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীরা পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন।
পরিস্থিতি আরও অবনতি হয় যখন ইশরাকের ঠিক পাশের চেয়ারে বসা দুই দলীয় নেতাকর্মীর মধ্যে প্রকাশ্য মারামারি শুরু হয়। নিজেকে সূত্রাপুর থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দাবি করে এক নেতা অপরজনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমি এখানে থাকব কি না তুই বলার কে?” মুহূর্তের মধ্যে দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও কিল-ঘুষি শুরু হয়। মঞ্চে বসা ইশরাকের ঠিক পাশেই প্রায় পাঁচ মিনিট ধরে এই বিশৃঙ্খলা চলার পর অন্য নেতাকর্মীরা এসে মারামারিতে লিপ্ত এক পক্ষকে জোরপূর্বক বের করে নিয়ে যান।
এমন চরম হট্টগোল ও বিশৃঙ্খল পরিবেশের মধ্যেই বাধ্য হয়ে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন বিতর্কিত প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়েই বিশৃঙ্খলা বজায় ছিল। এছাড়া এই হট্টগোলের সুযোগে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত দৈনিক যুগান্তর-এর এক মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদকের দামি আইফোনও চুরি হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।
সংবাদ সম্মেলন শেষে নিচ নেমেও নেতাকর্মীদের শোডাউন অব্যাহত রাখেন ইশরাক। গাড়িতে ওঠার আগে দলীয় লোকজনের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দিয়ে তিনি ছাদখোলা গাড়িতে চড়ে প্রেস ক্লাব এলাকা ত্যাগ করেন।
