নিজস্ব প্রতিবেদক, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের পাশে দাঁড়িয়ে তার অভিবাসন-সংক্রান্ত তদন্তের ঘটনায় ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। রাজনৈতিক মতাদর্শ ও প্রেসিডেন্টের সমালোচনার কারণে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
রবিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওবামা বলেন, আমেরিকার গণতন্ত্রের একটি মৌলিক নীতি হলো- কেউ কী রাজনৈতিক বিশ্বাস ধারণ করেন কিংবা কী বক্তব্য দেন, শুধু সেই কারণে সরকার বেছে বেছে কাউকে হয়রানি করতে পারে না। কিন্তু মিনেসোটার কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরের ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন ঠিক সেটিই করছে বলে দাবি করেন তিনি।
ওমরের নাগরিকত্ব ও অভিবাসন-সংক্রান্ত নথি নিয়ে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে গত ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটন ডিসিতে তার বাসায় তল্লাশি চালান কেন্দ্রীয় তদন্তকারীরা। সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ ডিজিটালের বরাতে জানা গেছে, কয়েক দশক আগে ওমর যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক হওয়ার সময় অভিবাসন-সংক্রান্ত কাগজপত্রে তিনি বা তার বাবা জালিয়াতি করেছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
ওবামা ওমরের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করে বলেন, তিনি ১২ বছর বয়সে বাবার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন এবং তার বাবা নাগরিকত্ব পাওয়ার পর ওমর ১৭ বছর বয়সে স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিক হন। তবে তদন্তকারীরা যে তত্ত্বের ভিত্তিতে এগোচ্ছেন- ওমরের বয়স তখন প্রকৃতপক্ষে ১৮ বছর ছিল—তা ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন সাবেক প্রেসিডেন্ট। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এমনটি হলে ওমরকে আলাদাভাবে নাগরিকত্বের আবেদন করতে হতো।
ওবামা বলেন, একজন আইন মেনে চলা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করার সাহস দেখিয়েছেন বলেই তার বিরুদ্ধে পুরো কেন্দ্রীয় সরকারের শক্তি প্রয়োগ করা হচ্ছে। এমন ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সাবেক প্রেসিডেন্ট আরও অভিযোগ করেন, ট্রাম্প প্রশাসন এর আগেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরকারি ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল, এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক এবং ফেডারেল রিজার্ভের সদস্যদের ঘিরে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন।
তবে ট্রাম্প তদন্তে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। এর আগে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, বিষয়টি বিচার বিভাগের এখতিয়ারভুক্ত। ওমর সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ব্যক্তিগতভাবে তিনি তাকে অসৎ বলে মনে করেন, তবে তদন্তের সঙ্গে তার নিজের কোনো সম্পর্ক নেই।
ওবামা সতর্ক করে বলেন, কোনো প্রেসিডেন্ট বা প্রশাসন যদি কাউকে ভয় দেখানোর এমন প্রচেষ্টায় জড়ায়, তাহলে রাজনৈতিক মতপার্থক্য নির্বিশেষে সব আমেরিকানেরই উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত। কারণ, এ ধরনের পদক্ষেপ স্বাভাবিক চর্চায় পরিণত হলে ভবিষ্যতে অন্য কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের নেতারাও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন।
ওমরের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত নিয়ে হোয়াইট হাউস ও স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা দপ্তরের বক্তব্য জানতে চেয়েছে ফক্স নিউজ ডিজিটাল। তবে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তাদের কোনো প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।
Comments
Previous Article‘আওয়ামী লীগ কখনও আওয়ামী লীগকে ছেড়ে যায় না’
