ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দীপু চন্দ্র দাস (২৭) নামের এক হিন্দু যুবককে পিটিয়ে ও জ্যান্ত পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় নতুন ও চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের দাবি ও ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণের মধ্যে স্পষ্ট অসঙ্গতি ধরা পড়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে।
পুলিশ ও র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯ ডিসেম্বর উত্তেজিত জনতা দীপু চন্দ্র দাসকে একটি পোশাক কারখানা থেকে ছিনিয়ে নিয়ে হত্যা করে। তবে অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম নর্থইস্ট নিউজের হাতে আসা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঠিক আগমুহূর্তে দীপু ভালুকা থানার ভেতর, ওসি হুমায়ুন কবিরের কক্ষেই উপস্থিত ছিলেন।
ভিডিওতে নীল শার্ট পরিহিত দীপুকে ওসির কক্ষে বসে পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে নিজেকে নির্দোষ দাবি করতে এবং নিরাপত্তা চাইতে দেখা যায়। একই সময় থানার বাইরে উত্তেজিত জনতা তার শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিল।
এই ভিডিওটি র্যাব-১৪ তদন্তভার নেওয়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পর ২০ ডিসেম্বর র্যাব-১৪–এর পরিচালক নাইমুল হাসান এবং ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) নজরুল ইসলাম দাবি করেন, ফিনিক্স নিটিং লিমিটেড নামের কারখানার কর্তৃপক্ষ দীপু চন্দ্র দাসকে উত্তেজিত জনতার হাতে তুলে দেয়। পরে জনতা তাকে টেনেহিঁচড়ে ভালুকা স্কয়ারে নিয়ে গিয়ে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ ঘটনায় কারখানার মালিকসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তবে ভিডিও ফুটেজ বলছে ভিন্ন কথা। সেখানে দেখা যায়, কারখানায় হামলার পর দীপু কোনোমতে পালিয়ে থানায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি তখন পুলিশের হেফাজতেই ছিলেন। এখানেই প্রশ্ন উঠেছে থানার ভেতর, ওসির কক্ষ থেকে কীভাবে তাকে জনতার হাতে তুলে দেওয়া হলো? এটি কি পুলিশের ব্যর্থতা, নাকি সরাসরি হস্তান্তর?
এ বিষয়ে ওসি হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
