ফোরটিন ডেস্ক : মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে সৌদি আরবে দায়িত্ব পালন করা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ৬০০ নারী সেনার মধ্যে ১২৫ জন গর্ভবতী হয়ে পড়েছেন এবং তাঁদের দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন ঘিরে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। ২৯ অক্টোবর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সৌদি সেনাদের হাতে কথিত নিপীড়নের শিকার হয়ে এসব নারী সেনা গর্ভবতী হয়েছেন। তবে এই দাবির সপক্ষে পাকিস্তান বা সৌদি কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মেলেনি এবং কোনো স্বাধীন আন্তর্জাতিক সূত্র থেকেও তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
২০২৬ সালের ৭ আগস্ট পবিত্র মক্কা নগরীতে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে ‘মক্কা জয়েন্ট ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট’ স্বাক্ষরিত হয়। এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, সদস্য যেকোনো একটি দেশের ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে অন্য সব দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য করার বিধান রাখা হয়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের পক্ষ থেকে সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার প্রেক্ষাপটে এই যৌথ প্রতিরক্ষা জোট সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করে।
পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিশ্চিত করেছেন, নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা আগে থেকেই সৌদি আরবে বিভিন্ন স্তরে নিয়োজিত রয়েছেন। তিনি জানান, পাকিস্তানি সেনারা বহু দশক ধরে নানা সক্ষমতা ও কারিগরি ক্ষেত্রে সৌদি আরবে সুনামের সঙ্গে যৌথ দায়িত্ব পালন করে আসছে।
অন্যদিকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, আঙ্কারা এই চুক্তিকে মূলত একটি আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। ইয়েমেনি মিলিশিয়াদের আক্রমণ প্রতিহত করতে সৌদি আরবের আকাশ প্রতিরক্ষা জোরদারসহ বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে তুরস্ক। পাশাপাশি লোহিত সাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে কাজ করছে আঙ্কারা। পাকিস্তানও অতীতে সৌদি আরবে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান, এইচকিউ-৯ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে সহযোগিতা জোরদার করেছিল।
সামগ্রিক এই ভূরাজনৈতিক মেরুকরণের সময়ে নারী সেনাদের নিয়ে ছড়িয়ে পড়া এমন সংবেদনশীল তথ্যকে অনেক বিশ্লেষক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রোপাগান্ডা বা মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ হিসেবেও দেখছেন। তবে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না থাকায় বিষয়টি নিয়ে ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।
