নিজস্ব প্রতিনিধি, সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল ও তাঁর লোকজনের বিরুদ্ধে ৮৭ কোটি টাকার দুটি সেতু নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া এবং এক কোটি টাকা চাঁদা দাবির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন কাজের মূল ঠিকাদার শফিকুল ইসলাম।
লিখিত অভিযোগে ঠিকাদার উল্লেখ করেন, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিরখলা-১ ব্রিজ ও সালামপুর ব্রিজের নির্মাণকাজ পরিচালনা করছে মেসার্স ইসলাম ট্রেডার্স। দীর্ঘদিন ধরে সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল ও তাঁর লোকজন তাঁর কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। দাবিকৃত অর্থ না দেওয়ায় বিভিন্ন মাধ্যমে চাপ সৃষ্টি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এমনকি তাঁকে রাজনৈতিক ও ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে পুলিশি হয়রানির মুখে ফেলা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। গত ২০ অক্টোবর দুই দফা মুক্তিরখলা-১ ব্রিজের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সর্বশেষ গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সালামপুর ব্রিজের কাজের সাইটে গিয়ে এমপির উপস্থিতিতে তাঁর লোকজন হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় রোলার চালক মনির, পে-লোডার চালক কবির আহমদ এবং সাইট ঠিকাদার হোসেন আহমদকে মারধর করে গুরুতর আহত করা হয় এবং কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। ঠিকাদারের দাবি, সুনামগঞ্জ পৌর ও জেলা যুবদলের নেতারা এমপির সাথে দেখা করে বিষয়টি রফাদফা করার জন্য তাঁকে ক্রমাগত চাপ দিয়ে আসছিলেন।
তবে সব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অবান্তর বলে দাবি করেছেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নুরুল। আজ বুধবার দুপুরে সালামপুর ব্রিজ পরিদর্শনকালে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঠিকাদারকে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি না। একটি অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে স্থানীয় বাসিন্দারা ব্রিজের গার্ডওয়াল নির্মাণে মারাত্মক অনিয়মের কথা জানালে আমি সরেজমিন পরিদর্শন করি। কাজে অনিয়ম ও ধীরগতির কারণেই এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। নিজেদের অনিয়ম ও লুটপাট ঢাকতেই আমার বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। চাঁদা চাওয়া তো দূরের কথা, কাউকে ধমকও দেওয়া হয়নি।’
পরিদর্শনকালে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম জানান, কাজের ধীরগতি নিয়ে ঠিকাদারকে বারবার চাপ দেওয়া হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম প্রমাণিত হলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
