আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বাড়ি থেকে কাজের (Work from Home) সুবিধা নিয়ে তথ্য গোপন করে একই সঙ্গে পাঁচটি ফুলটাইম চাকরি করার এবং বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে লন্ডনের সাউদার্ক ক্রাউন কোর্টে বিচার শুরু হয়েছে কাশিম চৌধুরী নামের এক বাংলাদেশির। পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলের ৫৫ বছর বয়সী এই বাসিন্দার বিরুদ্ধে প্রতারণার ৯টি গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের জালিয়াতি ও প্রতারণা সংক্রান্ত আইন (Fraud Act 2006) অনুযায়ী মিথ্যা বিবরণ দিয়ে বা তথ্য গোপন করে আর্থিক সুবিধা অর্জন গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।
লন্ডনের সাউদার্ক ক্রাউন কোর্ট (Southwark Crown Court), রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী লুসি অর্গান এবং ন্যাশনাল ফ্রড ইনিশিয়েটিভ যৌথভাবে এই বিচারিক কার্যক্রম ও তদন্ত পরিচালনা করছে।
আদালতে পেশ করা তথ্যানুযায়ী, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আটটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করে কাশিম মোট ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩৭৮ পাউন্ড বেতন নিয়েছেন, যার মধ্যে যুগপৎ চাকরির সময়ে প্রাপ্ত অর্থের পরিমাণ ছিল ২ লাখ ৮৪ হাজার ৬১৩ পাউন্ড।
তদন্তে প্রকাশ পায়, ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে এবং ২০২১ সালে ডেফরায় যোগ দেওয়ার পর তিনি ক্রমান্বয়ে ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ অ্যান্ড সোশ্যাল কেয়ার, ইউকে হেলথ সিকিউরিটি এজেন্সি, ডিপার্টমেন্ট ফর বিজনেস অ্যান্ড ট্রেড, ফুড স্ট্যান্ডার্ডস এজেন্সি ও হোম অফিসসহ একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেন।
একপর্যায়ে তাঁর চুক্তিকৃত সাপ্তাহিক কাজের মোট সময় দাঁড়ায় ১৮৩ ঘণ্টায়, অথচ এক সপ্তাহে মোট সময় থাকে ১৬৮ ঘণ্টা।
অসুস্থ মায়ের পরিচর্যার কথা বলে বাসা থেকে কাজের সুযোগ নিয়ে তিনি একই সময়ে একাধিক সরকারি প্রতিষ্ঠানে সম্পূর্ণ সময় দায়িত্ব পালন এবং অসুস্থতাজনিত ছুটির অপব্যবহার করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী লুসি অর্গান এবং ন্যাশনাল ফ্রড ইনিশিয়েটিভের তথ্য প্রমাণ পর্যালোচনার ভিত্তিতে মামলার বিচারিক কার্যক্রম বর্তমানে চলমান রয়েছে।
