তরুণ প্রজন্মকে শিল্প-সংস্কৃতির চর্চায় সম্পৃক্ত করার প্রত্যয়ে দিনব্যাপী কর্মশালা, পরে নাট্যকর্মীদের নিয়ে ‘আলাপন’
নিউইয়র্কের কুইন্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির কিশোর ও তরুণদের শিল্প-সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে দিনব্যাপী থিয়েটার ওয়ার্কশপ ‘ক্রিয়েটিং নিউ স্টোরি টেলারস’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার, ২ আগস্ট ২০২৬, কুইন্সের ১৪৮-৪৬ হিলসাইড অ্যাভিনিউতে থিয়েটার সেভেন্টি ওয়ানের আয়োজনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
কর্মশালায় ফেসিলিটেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন স্বনামধন্য অভিনয়শিল্পী নায়লা আজাদ নূপুর। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি প্লে ডিরেক্টর, শিক্ষক ও কোরিওগ্রাফার হিসেবেও দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। পুরো কর্মশালার ব্যবস্থাপনায় ছিলেন থিয়েটার সেভেন্টি ওয়ানের প্রেসিডেন্ট, অভিনেতা ও নির্মাতা খাইরুল ইসলাম পাখি। কোঅর্ডিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অভিনেত্রী বন্যা মির্জা।
‘কুইন্স সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার ইনক’-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এ কর্মশালায় বাংলাদেশি কমিউনিটির উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কিশোর ও তরুণ অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের মতে, নতুন প্রজন্মকে বাংলা শিল্প ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত ও সম্পৃক্ত করা এবং অভিনয় ও সৃজনশীলতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়াই ছিল এ কর্মশালার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়া কর্মশালা চলে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। দিনব্যাপী কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা অভিনয়, গল্প বলার কৌশল, সৃজনশীল চিন্তা এবং থিয়েটারের বিভিন্ন দিক নিয়ে হাতে-কলমে কাজ করার সুযোগ পান।
কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন ফেসিলিটেটর নায়লা আজাদ নূপুর। সার্টিফিকেট বিতরণ পর্বটি উপস্থাপনা করেন সাদিয়া খন্দকার। এ সময় নাট্যজন রোকেয়া রফিক বেবী এবং সাপ্তাহিক বাঙালি সম্পাদক কৌশিক আহমেদ উপস্থিত থেকে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করেন। একই সঙ্গে তারা এ ধরনের আয়োজনের জন্য থিয়েটার সেভেন্টি ওয়ানের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান এবং আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।
নায়লা আজাদ নূপুরের সঙ্গে ‘আলাপন’
দিনব্যাপী কর্মশালার পর বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে শুরু হয় দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান ‘নায়লা আজাদ নূপুরের সাথে আলাপন’। নিউইয়র্কের পাশাপাশি নিউইয়র্কের বাইরের বিভিন্ন এলাকার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাট্যকর্মী এ পর্বে অংশ নেন।
আড্ডার আবহে অনুষ্ঠিত এ পর্বে নিউইয়র্কে বাংলা নাট্যচর্চার বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যতে এ চর্চাকে আরও বেগবান ও সমৃদ্ধ করার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। নাট্যকর্মীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মকে থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত করা, নিয়মিত নাট্যচর্চার পরিবেশ তৈরি এবং প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির বিকাশে সম্মিলিতভাবে কাজ করার বিষয়েও মতামত ব্যক্ত করা হয়।
আয়োজনের শেষ পর্যায়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন ও সমাপনী বক্তব্য রাখেন থিয়েটার সেভেন্টি ওয়ানের প্রেসিডেন্ট খাইরুল ইসলাম পাখি। তিনি দিনব্যাপী কর্মশালা ও ‘আলাপন’ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিল্পী, নাট্যকর্মী, তরুণ-তরুণী, অতিথি এবং সহযোগীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মকে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও নাট্যচর্চার সঙ্গে যুক্ত রাখতে এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখা জরুরি। তরুণদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক চেতনা বিকাশে থিয়েটার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
থিয়েটার সেভেন্টি ওয়ানের এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে নিউইয়র্কে বাংলা নাট্যচর্চার নতুন সম্ভাবনা তৈরি এবং তরুণ প্রজন্মের মধ্যে শিল্প-সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর একটি ইতিবাচক উদ্যোগ হিসেবে দিনব্যাপী কর্মশালা ও ‘আলাপন’ পর্বটি প্রশংসিত হয়েছে।
