পবিত্র ধর্মীয় শিক্ষার কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত দেশের বিভিন্ন আবাসিক মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর ধারাবাহিক যৌন নির্যাতন ও বলৎকারের হৃদয়বিদারক ঘটনায় অভিভাবক ও সমাজ বিশ্লেষকদের মনে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও বিচারিক আদালতের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে দেশের বিভিন্ন মাদ্রাসায় শিশুদের ওপর নির্যাতনের শতাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে, যার বেশিরভাগেরই বিচারিক কার্যক্রম চলমান।
তবে অপরাধের মাত্রা বাড়লেও আদালতের সাম্প্রতিক কঠোর অবস্থান ও দ্রুততম সময়ে দেওয়া দৃষ্টান্তমূলক রায় বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াচ্ছে। বিশেষ করে চট্টগ্রামে ঘটে যাওয়া তিনটি চাঞ্চল্যকর মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষকদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
আদালতের তিনটি স্মরণকালের রায়:
শিক্ষক ইসমাইলের মৃত্যুদণ্ড: চট্টগ্রামের দারুল উলুম মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ১২ বছরের এক শিক্ষার্থীকে বলৎকারের অপরাধে শিক্ষক মো. ইসমাইলকে (৪৬) মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫।
লোহাগাড়ায় শিক্ষকের যাবজ্জীবন: চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় এক কোমলমতি ছাত্রকে নির্যাতনের দায়ে শিক্ষক রিয়াদ উদ্দিনকে (২৩) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২।
১০ বছরের ছাত্রকে নির্যাতনে যাবজ্জীবন: ১০ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে বলৎকারের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় শিক্ষক মো. আবদুল মজিদকে (২৪) যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭।
ইসলাম ধর্মীয় নীতি-শারীয়াহতে সমকামিতা ও যেকোনো রূপ ব্যভিচার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হলেও দ্বীনি প্রতিষ্ঠানে এ ধরণের জঘন্য অপরাধের পুনরাবৃত্তি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, আবাসিক ব্যবস্থাগুলোতে নজরদারির অভাব, শিক্ষকদের অসীম ক্ষমতার দাপট এবং সামাজিক লজ্জার ভয়ে অভিভাবকদের নীরব থাকার সুযোগ নিত অপরাধীরা। কিন্তু বর্তমানে অভিভাবকদের সচেতনতা ও আইনি পদক্ষেপে সেই গোপন অপরাধের মুখোশ উন্মোচিত হচ্ছে।
কোমলমতি শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রতিটি মাদ্রাসায় অবিলম্বে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিয়োগের আগে শিক্ষকদের চরিত্র ও ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং কঠোর শিশু সুরক্ষা আইন জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সুশীল সমাজ।
